মঙ্গলবার, ২১ Jul ২০২৬, ০৯:৫১ পূর্বাহ্ন

সময়ের খবর ডেস্ক:
ঢাকা, ২০ জুলাই, ২০২৬ (বাসস) : আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজ রোববার বিশ্বকাপ ফাইনালে লাল কার্ড দেখা খেলোয়াড়দের ‘কলঙ্কের তালিকায়’ নিজের নাম যোগ করেছেন।
ফার্নান্দেজের বহিষ্কারের মাধ্যমে আর্জেন্টিনা আরেকটি অনাকাঙ্খিত রেকর্ডও গড়েছে। বিশ্বকাপ ফাইনালের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি লাল কার্ড দেখা দেশের তালিকায় এখন তারা এককভাবে শীর্ষে।
এর আগে বিশ্বকাপ ফাইনালে লাল কার্ড পাওয়া পাঁচ খেলোয়াড় :
১৯৯০ : পেদ্রো মনসন (আর্জেন্টিনা)
অস্কার রুগেরির বদলি হিসেবে মাঠে নামার মাত্র ২০ মিনিট পরই পশ্চিম জার্মানির স্ট্রাইকার জার্গেন ক্লিন্সমানের ওপর উঁচু ট্যাকল করে লাল কার্ড দেখেন পেদ্রো মনসন। ক্লিন্সমান অতিরঞ্জিতভাবে পড়ে যাওয়ার জন্য পরিচিত ছিলেন। কিন্তু সেই সুনামও মনসনকে ইতিহাসের ভুল দিকের প্রথম মানুষ হওয়া থেকে রক্ষা করতে পারেনি। তিনিই বিশ্বকাপ ফাইনালে প্রথম লাল কার্ড দেখা খেলোয়াড়।
গুস্তাভো দেজোত্তি (আর্জেন্টিনা)
মনসন একটু আগেভাগেই ড্রেসিংরুমে ফিরে যাবার পর সতীর্থ গুস্তাভো দেজোত্তিও দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন। জার্গেন কোলারের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কির জেরে তাকে বহিষ্কার করা হয়।
১৯৯৮ : মার্সেল দেসাই (ফ্রান্স)
জিনেদিন জিদানের জোড়া গোলে ফ্রান্স যখন প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের উচ্ছ্বাসে ভাসছিল, তখন দেসাইয়ের লাল কার্ডের ঘটনা অনেকটাই আড়ালে পড়ে যায়। ব্রাজিলের ডিফেন্ডার কাফুই ছিলেন তার দুর্ভাগ্যের কারণ। রেফারির সিদ্ধান্তে আপত্তি জানিয়ে ৪৯তম মিনিটে প্রথম হলুদ কার্ড দেখেন দেসাই। তিনি মনে করেছিলেন কাফুকে ফাউল করেননি।
পরে একই খেলোয়াড়কে আবার ফাউল করায় দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় তাকে। ফলে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকা অবস্থায় শেষ ২০ মিনিটেরও বেশি সময় ফ্রান্সকে ১০ জন নিয়ে খেলতে হয়েছিল।
ম্যাচ শেষে তাকে ডোপ টেস্টের জন্য ডাকা হয়েছিল। পরে দেসাই স্মৃতিচারণ করে বলেন,”আমি বলেছিলাম, ‘না, আমাকে কোথাও আটকে রাখা যাবে না! টেলিভিশন ছাড়া কোনো কক্ষে বসে থাকতে পারতাম না। কী হচ্ছে জানব না, আর ভাবছিলাম যদি আমরা বিশ্বকাপ হেরে যাই, তাহলে পুরো দেশ আমার দরজায় এসে কড়া নাড়বে। আমি ভীষণ ভয়ে ছিলাম। খুব রাগও হয়েছিল, তাই একটু উত্তেজিত আচরণ করেছিলাম। জোর করেই বেরিয়ে এসে ম্যাচটা দেখলাম। সেই চাপের পরও শেষ পর্যন্ত আমরা ৩-০ ব্যবধানে জিতেছিলাম।”
২০০৬ : জিনেদিন জিদান (ফ্রান্স)
বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে আলোচিত লাল কার্ড সম্ভবত এটিই। কারণ এটি এসেছিল ফুটবল কিংবদন্তি জিনেদিন জিদানের ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচে। ফ্রান্স ও ইতালির ফাইনাল ১-১ সমতায় ছিল এবং ম্যাচ গড়িয়েছিল অতিরিক্ত সময়ে। দুই গোলদাতা জিদান ও মার্কো মাতেরাজ্জির মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। এর জবাবে জিদান বুক দিয়ে সজোরে মাথা ঠুকে দেন ইতালিয়ান ডিফেন্ডারকে।
রেফারি হোরাসিও এলিসন্দো কিংবা সহকারী রেফারি কেউ ঘটনাটি দেখেননি। তবে চতুর্থ কর্মকর্তা তা লক্ষ্য করেন এবং রেফারিকে জানান।পরে গাজেত্তা দেল্লো স্পোর্টকে এলিসন্দো বলেন,”আমি যখন রিপোর্টে তার নাম লিখতে যাচ্ছিলাম, তখন সে আমার কাঁধে হাত রেখে বলেছিল, ‘শান্ত থাকুন। লাল কার্ড সঠিক সিদ্ধান্ত। কিন্তু এর আগে কী হয়েছিল, আপনি কি দেখেননি বা শুনেননি? আমি বললাম, ‘না, কী হয়েছিল?’ কিন্তু সে আর কিছু না বলে পেছন ফিরে চলে গেল।”
জিদান মাথা নিচু করে মাঠ ছাড়েন। আট বছর আগে যে ট্রফি জিতে তিনি ফ্রান্সকে গৌরবান্বিত করেছিলেন, সেই ট্রফির পাশ দিয়েই এবার বিদায় নিতে হয় তাকে। শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে হেরে যায় ফ্রান্স।
তবে অনেকেই তার পাশে দাঁড়ান। তৎকালীন ফরাসি প্রেসিডেন্ট জ্যাক শিরাক বলেন, “তুমি হৃদয়বান, প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং নীতিবান একজন মানুষ। সে কারণেই ফ্রান্স তোমাকে শ্রদ্ধা করে এবং ভালোবাসে।”
২০১০ : জন হেইটিঙ্গা (নেদারল্যান্ডস)
জোহানেসবার্গের সেই ফাইনালটি নান্দনিক ফুটবলের জন্য নয়, বরং কঠোর শারীরিক লড়াইয়ের জন্য বেশি স্মরণীয়। ডাচরা মনে করেছিল স্পেনকে দমিয়ে রাখার সবচেয়ে ভালো উপায় হলো শারীরিকভাবে ভয় দেখানো। ম্যাচটি পরিচালনা করেন ইংল্যান্ডের খ্যাতনামা রেফারি হাওয়ার্ড ওয়েব। তিনি মোট ১৪টি হলুদ কার্ড দেখান।
হেইটিঙ্গা দুই হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন। আর দ্বিতীয়বার যে খেলোয়াড়কে ফাউল করেছিলেন- আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা, তিনিই কয়েক মিনিট পর জয়সূচক গোল করে যেন প্রমাণ করেন শেষ পর্যন্ত ন্যায়বিচারই প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।